ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home অন্যান্য...স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগী আট মাসে ১২৮৫ জন, বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ

পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগী আট মাসে ১২৮৫ জন, বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ

পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়ে ব্যস্ত হাসপাতাল ওয়ার্ড

মোঃ হাসিবুর রহমান (পিরোজপুর):

পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে না। গত আট মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ২৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তের এই সংখ্যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝালকাঠি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ২১৭ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২০ জন।

উপজেলাভিত্তিক চিত্র

বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ২৩ জন, নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, নেছারাবাদে ১৪ জন, কাউখালীতে ৮ জন, ভান্ডারিয়ায় ১১ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত আট মাসে সবচেয়ে বেশি ৫৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া নাজিরপুরে ৭৮ জন, নেছারাবাদে ২১৬ জন, কাউখালীতে ৯৬ জন, ভান্ডারিয়ায় ২৪২ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সাধারণ রোগীদের উদ্বেগ, পৃথক ওয়ার্ডের দাবি

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু রোগীদের সঙ্গে সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাঁরা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকের বক্তব্য

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল কনসালট্যান্ট সুরঞ্জিত সাহা বলেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছে না। তাঁরা আশা করেছিলেন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমবে, কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন রোগী আসছেন। একজন ডেঙ্গু রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগে, এর মধ্যেই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগে পাশের জেলা বাগেরহাটের বাদাল এলাকা থেকে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতেন। বর্তমানে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য, তদন্ত দল মাঠে

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে আইইডিসিআরের ইনভেস্টিগেশন টিম পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি টিম পিরোজপুরে এসে কাজ শুরু করেছে।

সিভিল সার্জন জানান, তদন্ত দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সুপারি ও নারিকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি এবং বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জনসচেতনতার ঘাটতিকেও ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত দলের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মেহেরপুরে ফেনসিডিলসহ আটক মাদক ব্যবসায়ীর ১০ বছর কারাদণ্ড
পত্নীতলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ১

সত্য সংবাদের সকল খবর পড়তে ফেসবুকে ফলো করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর