ডেক্স রিপোর্ট:
সন্তান জন্মের আগেই পুরুষের শরীর ও মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়, যা তাদের পিতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু হরমোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরুষের আচরণ, আবেগ এবং সন্তানের প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ইতিবাচক প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও পড়তে পারে।
পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক লেখক জানান, সন্তানের জন্মের আগে তিনি ও তার স্ত্রী প্রসব-পূর্ব প্রশিক্ষণ, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কর্মশালা এবং হাসপাতাল পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি গর্ভাবস্থা ও নবজাতক পরিচর্যা নিয়ে নানা বই ও অনলাইন তথ্যও সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ওই সময় তার কাছে কেবল মায়ের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কেই বিস্তারিত তথ্য ছিল; পিতার শরীরেও যে একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা সভা, সন্ত্রাস-মাদক দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা
পরে প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ সারাহ ব্লাফার হার্ডির লেখা Father Time বই পড়ার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, নিবেদিতপ্রাণ মায়ের মতো পুরুষের শরীরেও সন্তানের প্রতি সুরক্ষামূলক ও যত্নশীল আচরণ গড়ে তোলার জৈবিক সক্ষমতা রয়েছে। বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পিতৃত্বের জন্য পুরুষের শরীর ও মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করে, যা ভবিষ্যতে সন্তানের পরিচর্যায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিতৃত্বকে শুধু সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি জৈবিক ও মানসিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখা উচিত। এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে সন্তান প্রতিপালনে বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
