পলাশ কুমার সাদিয়াল (স্টাফ রিপোর্টার):
বাগেরহাটের সরকারি খাল দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারের দাবিতে যুব সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে আন্দোলনের মূল দাবি বহাল রয়েছে। কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
খাল হারানোর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটজুড়ে অসংখ্য প্রবহমান খাল ছিল। এসব খাল বর্ষার পানি নিষ্কাশন, কৃষিজমিতে সেচ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ এবং মাছের ঘের তৈরির কারণে অনেক খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এর প্রভাবে কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবন ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তরুণদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার করা হলে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তাদের মতে, সরকারি জলাধার ও খাল রক্ষা করা কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রশাসনের আশ্বাস, বাস্তবায়নের অপেক্ষা
আন্দোলনের পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আগামী তিন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জেলার সরকারি খালগুলো দখলমুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের আশা, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। খালগুলো পুনঃখনন, নিয়মিত তদারকি এবং পুনর্দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে ৬০৬ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
