আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালে যেসব ভোটারকে অমিল বা যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরে এসব নথি ইসিনেটে আপলোড করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকেও (ইআরও) বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের গত ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত প্রেস নোটে বলা হয়েছে, সাধারণ পরিস্থিতিতে এসব ভোটারকে ইআরও বা সহকারী ইআরওর কার্যালয়ে শুনানির জন্য ডাকার প্রয়োজন হবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানি হতে পারে, তবে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনলাইনে করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটারের অনুমতি নিয়ে পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন বলে প্রেস নোটে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী, দরিদ্র, গৃহহীন ও রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সহায়তায় পর্যাপ্ত সহায়তা কেন্দ্র ও বিশেষ শিবির করার জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
প্রেস নোটে আরও বলা হয়েছে, এসআইআরের জন্য ফরম-৬-এর সঙ্গে সংযুক্ত ঘোষণাপত্রের বৈধতা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। এসআইআর চলমান না থাকা সময়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য ফরম ব্যবহার করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ইসিনেট নিয়েও তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে প্রকাশিত প্রেস নোট অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের আইনগত ক্ষমতা অনুযায়ী ইসিনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যবস্থাটির কার্যক্রম আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে একজন জ্যেষ্ঠ উপ-নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে আইআইটি/আইআইআইটির একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞও থাকবেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের জন্যও সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রেস নোটে বলা হয়েছে, এসআইআরের সময় বা পরে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাদের পাশাপাশি তরুণ ও প্রথমবারের ভোটাররাও সংশ্লিষ্ট ইআরওর কাছে আবেদন করে চলমান হালনাগাদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইআরওদের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিনের দেওয়া তথ্য মতে, ইতোমধ্যে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে।
দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এসব নোটিশ, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা আগামঢ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুনঃনির্ধারন করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বাড়িয়েছে কমিশন। সেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ সময় ১২ অক্টোবর ২০২৬ এবং নোটিশ, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রেস নোটে আরও বলা হয়, গোয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএলওদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফরম সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ফরম-৬ ইতোমধ্যে পূরণ করেছেন।
২৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনক্রমে কার্যকর করার কথা জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুনঃ বিএনপি টাকা ইনকামের মাধ্যম মনে করলে স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে দেওয়ার আহবান এমপির
মির্জাগঞ্জে ট্রেন যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, দুই ঘণ্টা আটকে থাকে রুপসা