ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home অন্যান্য...কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য ডিমলার রাখির শখের বাগান এখন মাসে লাখ টাকা আয়ের নার্সারি

ডিমলার রাখির শখের বাগান এখন মাসে লাখ টাকা আয়ের নার্সারি

ডিমলার রাখির নার্সারি প্ল্যান্টোলজিতে সাজানো গাছের সারি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আতিফা নাসরিন রাখি। শখের বাগান থেকে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন একটি নার্সারি। বর্তমানে তাঁর নার্সারিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার প্রজাতির গাছ। এসব গাছের চারা বিক্রি করে মাসে প্রায় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তিনি।

রাখির নার্সারির নাম প্ল্যান্টোলজি। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া, অ্যালোভেরা, আগলোনেমা, কোলিয়াস, ট্রেডেসক্যান্টিয়া, মনস্টেরা, ফিলোডেনড্রন, মানিপ্ল্যান্ট, বাগানবিলাস, কাঁটামুকুট ও অর্কিডসহ নানা ধরনের ফুল, পাতাবাহার ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ।

এক হাজার টাকার ক্যাকটাস থেকে যাত্রা শুরু

ছোটবেলা থেকেই ফুল ও গাছের প্রতি আগ্রহ ছিল রাখির। বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর বাগান করার শখ। পরে নতুন নতুন জাতের গাছ সংগ্রহ করতে করতে একসময় সেই শখের বাগানই রূপ নেয় ব্যবসায়িক নার্সারিতে।

২০২০ সালে ঘর সাজানোর জন্য শখ করে এক হাজার টাকা দিয়ে দুই জোড়া ক্যাকটাসের চারা কিনেছিলেন রাখি। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন নার্সারির পেজ ও গাছের ছবি দেখে গাছের ব্যবসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে গাছ সংগ্রহ, চারা উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করেন তিনি, বাড়তে থাকে গাছের সংখ্যাও। একপর্যায়ে গড়ে তোলেন প্ল্যান্টোলজি, যেখানে এখন রয়েছে প্রায় এক হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ।

অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে প্ল্যান্টোলজির পরিচিতি

সরেজমিনে দেখা যায়, নার্সারিজুড়ে বিভিন্ন আকারের টব ও ঝুলন্ত পাত্রে সাজানো রয়েছে গাছগুলো। ছাউনি ও মাচার নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া ও বিভিন্ন পাতাবাহার। রঙিন পাতার আগলোনেমা, কোলিয়াস, মনস্টেরা ও ফিলোডেনড্রনের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছও।

গাছ বিক্রির জন্য প্ল্যান্টোলজি নামে একটি অনলাইন পেজও আছে রাখির, যেখানে গাছের ছবি ও ভিডিও দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাগানপ্রেমীরা চারা অর্ডার করেন। অনলাইনের পাশাপাশি নার্সারি থেকেও সরাসরি গাছ ও চারা বিক্রি করা হয়। নিজের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতেও অংশ নিচ্ছেন রাখি।

‘শুরুতে শুধুই শখ ছিল’

আতিফা নাসরিন রাখি বলেন, শুরুতে শুধুই শখ ছিল, নিজের জন্য কয়েকটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। পরে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকলে মানুষ কিনতে চাইলে চারা তৈরি করে বিক্রি শুরু করেন। এখন এটি তাঁর ভালো লাগার পাশাপাশি আয়েরও একটি বড় উৎস বলে জানান তিনি। নার্সারি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি সাজেদা বেগম শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর নার্সারিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। গাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে, আর বিক্রির পরিমাণ ভালো হলে মাসিক আয় লাখ টাকা পর্যন্ত হয় বলে জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তার প্রশংসা

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, আতিফা নাসরিন রাখির উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। শখকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি সম্ভাবনাময় নার্সারি গড়ে তুলেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার আগ্রহও তৈরি করছে বলে জানান তিনি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের দলে জায়গা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর