ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home বিনোদন আধুনিক পানির ব্যবস্থার ভিড়ে কালের সাক্ষী নীলফামারীর সেই পাতকুয়া

আধুনিক পানির ব্যবস্থার ভিড়ে কালের সাক্ষী নীলফামারীর সেই পাতকুয়া

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা পাতকুয়া

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

একসময় গ্রামবাংলার মানুষের দৈনন্দিন পানির অন্যতম ভরসা ছিল পাতকুয়া। সকাল-বিকেল কলসি, বালতি কিংবা ঘড়া হাতে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করা ছিল গ্রামীণ জীবনের পরিচিত দৃশ্য। পান করা থেকে শুরু করে গোসল, কাপড়চোপড় ও বাসনপত্র ধোয়া, রান্নাবান্না এবং গবাদিপশুর পরিচর্যা সহ নানা কাজে ব্যবহৃত হতো কুয়ার পানি।

দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে কয়েক দশক আগেও বহু বাড়িতে এমন কুয়া দেখা যেত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও এসব কুয়ার পানি তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত। একটি কুয়া অনেক সময় একটি পরিবার, এমনকি কয়েকটি পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাত।

কুয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল গ্রামীণ জীবনের এক ধরনের সামাজিক পরিবেশও। পানি আনতে এসে নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। বিকেলে কুয়াপাড়ে বসত প্রবীণদের আড্ডা। শিশু-কিশোরদেরও ছিল সেখানে বিচরণ। ফলে কুয়া শুধু পানির উৎসই ছিল না, এটি হয়ে উঠেছিল গ্রামের পরিচিত ও প্রাণবন্ত একটি স্থান।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বানিয়াপাড়ায় মৃত খেলুরাম বর্মনের বাড়িতে এখনো টিকে আছে তেমনই একটি পাতকুয়া। আধুনিক পানির ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে এটি আর নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। তবে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা এই কুয়াটি ধরে রেখেছে গ্রামীণ জীবনের পুরোনো দিনের নানা স্মৃতি।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলের বহু বাড়িতে এমন কুয়া ছিল। তখন টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবহার এতটা সহজলভ্য ছিল না। ফলে অনেক পরিবারের জন্য কুয়াই ছিল অন্যতম প্রধান পানির উৎস।

সময় বদলের সঙ্গে বদলে যায় সেই চিত্রও। বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল স্থাপন এবং বিদ্যুতের সুবিধা বাড়ার ফলে বৈদ্যুতিক মোটর ও সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবহার সহজলভ্য হয়। এতে কুয়ার ওপর মানুষের নির্ভরতা কমতে থাকে। একপর্যায়ে অনেক কুয়া পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরিচর্যার অভাবে কোনোটি ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোনোটি ঢেকে গেছে ঝোপঝাড় ও আগাছায়।

বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজসেবক ফনিভূষণ রায় বলেন, একসময় পাতকুয়া ছিল গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। পানি সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে এর ব্যবহার ছিল। এখন আধুনিক পানির ব্যবস্থার কারণে সেই প্রয়োজন নেই। তবে টিকে থাকা কুয়াগুলো সংরক্ষণ করা গেলে গ্রামের পুরোনো জীবনযাত্রার স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

একই গ্রামের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, তাদের শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই কুয়াকে ঘিরে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও কুয়ার পানি ছিল ঠান্ডা। গ্রামের মানুষ এখান থেকে পানি সংগ্রহ করতেন। তবে এখন টিউবওয়েল ও পাম্পের কারণে কুয়ার ব্যবহার নেই বললেই চলে, উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বেনাপোল স্থলবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

সোনারগাঁয়ে ভুয়া র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে দুইজন গ্রেপ্তার

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর