মোঃ কায়সার হামিদ শামীম (চট্টগ্রাম)
আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত মাত্র ১০ দিনের মধ্যে শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে সংঘটিত আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার (২৪ জুন) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন রাতে চেনামতি গ্রামের বড়ুয়া পাড়ায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া নিহত হন। এ ঘটনায় অর্ক বড়ুয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে নামে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রঙিন মোংলা, উড়ছে নানা দেশের পতাকা
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুর আগে দেওয়া ভিডিও জবানবন্দি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন, চিকিৎসা প্রতিবেদন, উদ্ধারকৃত আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় তদন্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগপত্র নম্বর ১৪৭ হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলেছে, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
