তানিন পিয়াস চৌধুরী (নড়াগাতী, নড়াইল):
নড়াগাতী ডাকাতি মামলায় ৬ জন গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকার রয়েছেন। অভিযানে গলিত অবস্থায় লুণ্ঠিত স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন গভীর রাতে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দীন খাঁনের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সালাহ উদ্দীন খাঁন ও তার ছেলেকে বেঁধে রেখে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর নড়াইলের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিসিআইসি এবং নড়াগাতী থানার সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। গত ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে গলিয়ে রাখা লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— খুলনার তেরখাদা উপজেলার জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলী (৪৮), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), নড়াগাতী এলাকার জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া উপজেলার মফিজ খাঁ (৩৮), খুলনার তেরখাদা উপজেলার দীন ইসলাম মোল্লা (৪২) এবং খুলনার রূপসা উপজেলার স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দুটি ডাকাতি ও তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধার বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি ডাকাতি ও একটি চুরির মামলা। জাকির হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়া মফিজ খাঁর বিরুদ্ধে নড়াইল ও গোপালগঞ্জে দুটি ডাকাতি ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া লুণ্ঠিত মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিরলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ
