যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে হত্যা সহ ৩০ মামলার আসামি ও শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’ পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এই ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) সরাসরি জড়িত বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার সময় পিচ্চি রাজাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানের তালা নিজ হাতে খুলে দেন পুলিশের এসআই প্রবীর কুমার। পরে তাঁকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
পালানোর ‘নাটক’ সাজানো হয়েছিল
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাজা পুলিশের হেফাজত থেকে স্বাভাবিকভাবে পালিয়ে যাননি। বরং তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পর ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে নতুন করে ‘পালানোর নাটক’ সাজানো হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরেও ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। কীভাবে হত্যা সহ প্রায় ৩০টি মামলার আসামি একজন বন্দি পুলিশি হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত।
শুধু অবহেলা নয়, পরিকল্পিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে উঠে আসে, ঘটনাটি নিছক নিরাপত্তা ঘাটতি বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা নয়; বরং বন্দিকে পরিকল্পিতভাবে মুক্ত করে দেওয়ার সঙ্গে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার পেছনে আরও কেউ জড়িত কিনা, অর্থনৈতিক লেনদেন বা অন্য কোনো স্বার্থ কাজ করেছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
হত্যা সহ বিপুলসংখ্যক মামলার আসামি একজন শীর্ষ মাদক কারবারিকে পুলিশ হেফাজত থেকে এভাবে বের করে দেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ অটোগ্যাসের দাম বাড়ল লিটারে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা
নীলফামারীতে একযোগে ছয় উপজেলায় আনসার ভিডিপির বৃক্ষরোপন কর্মসূচি