ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home অন্যান্য...কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য স্বামী হারানোর পরও থামেননি খাদিজা, বিদেশি ফলের বাগানে সফল কৃষি উদ্যোক্তা

স্বামী হারানোর পরও থামেননি খাদিজা, বিদেশি ফলের বাগানে সফল কৃষি উদ্যোক্তা

নীলফামারীর সফল কৃষি উদ্যোক্তা খাদিজা আক্তারের কফি ও বিদেশি ফলের বাগান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

স্বামীকে হারিয়ে একসময় আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়া খাদিজা আক্তার এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাবলম্বী নারী। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার এই অদম্য সাহসী, কঠোর পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল নারী একা হাতেই সকল খারপ পরিস্থিতি সামলে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি দুই ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলেছেন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে।

নিজ বসতভিটা সংলগ্ন পাঁচ বিঘা জমিতে কফি, রাম্বুটান, কোকো, ড্রাগন ও পার্সিমনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের সমন্বিত বাগান গড়ে তুলেছেন খাদিজা। কৃষিতে সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগ এখন এলাকার অন্যদেরও অনাবাদি জমি চাষাবাদে আগ্রহী করছে।

স্বামীকে হারিয়ে সংসারের হাল ধরেন খাদিজা

জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের মৌজা শৌলমারী সুনগর গ্রামের খাদিজা আক্তারের জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে আসে ২০১৪ সালে। ওই বছর হৃদরোগ সহ নানা শারীরিক জটিলতায় মারা যান তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম। তখন বড় ছেলে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন খাদিজা। তবে পরিস্থিতির কাছে হার মানেননি তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর কৈমারী বাজারের স্টেশনারি দোকানটির দায়িত্ব নেন। দিনরাত পরিশ্রম করে ব্যবসা, সংসার ও দুই ছেলের পড়াশোনা একসঙ্গে সামলাতে থাকেন।

তাঁর সেই সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে। বড় ছেলে মো. আখতারুজ্জামান নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে বর্তমানে একটি বেভারেজ কোম্পানিতে জ্যেষ্ঠ এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে সেফায়েত নামরাত গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অনুষদে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি মায়ের কৃষিকাজে সরাসরি সহযোগিতা করছেন।

কফি চাষ থেকে বিদেশি ফলের বাগান

২০১৮ সালে কৃষিকে সঙ্গি করে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন খাদিজা আক্তার। কফি তাঁর পছন্দের পানীয় হওয়ায় বড় ছেলের পরামর্শে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে কফি চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে অ্যারাবিকা জাতের কফির চারা এনে জমিতে রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে বাগানে যুক্ত হয় রাম্বুটান, কোকো, ড্রাগন ও পার্সিমনের মতো বিদেশি ফল। বর্তমানে পাঁচ বিঘা জমির তিন বিঘায় কফি এবং দুই বিঘায় অন্যান্য বিদেশি ফলের চাষ করছেন তিনি।

ফলন শুরু হওয়ার পর গত প্রায় ছয় বছর ধরে কফি বাজারজাত করছেন খাদিজা। বর্তমানে প্রতি কেজি কফি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রায় ৪০০ কেজি রাম্বুটান প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি। চলতি বছর তিনটি গাছ থেকেই পেয়েছেন ৮০ কেজি রাম্বুটান। তিনি জানিয়েছেন, খরচ বাদ দিয়ে বাগান থেকে বছরে তাঁর নিট আয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা।

বাগানের পাশাপাশি নার্সারি ও মাছের পোনা উৎপাদন

ফলবাগানের পাশাপাশি বহুমুখী সমন্বিত খামারও গড়ে তুলেছেন খাদিজা। বাগানের পুকুরে রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন করছেন তিনি। চলতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার টাকার পোনা বিক্রি করেছেন।

এ ছাড়া নার্সারিতে উৎপাদন করেছেন ২ হাজার ৫০০টি কফি, ৩০০টি রাম্বুটান ও ২০০টি কোকোর চারা। ছোট ছেলে কৃষিবিদ সেফায়েত নামরাতের সহযোগিতায় এসব চারা ও ফল অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রিও করা হচ্ছে। কৃষি থেকে অর্জিত আয় দিয়ে নতুন করে আরও ৭৫ শতাংশ জমি কিনেছেন খাদিজা। ফলে ভবিষ্যতে তাঁর কৃষি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে এই জানান সফল এই কৃষি উদ্যোক্তা।

সম্মাননায় স্বীকৃতি, অনুপ্রেরণা অন্যদের

কৃষি ও মৎস্য খাতে অবদানের জন্য একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন খাদিজা আক্তার। ২০২২ সালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে রঙিন মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য সম্মাননা পান তিনি। চলতি বছর পেয়েছেন জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী কৃষি উদ্যোক্তার পুরস্কার।

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল সিদ্দিক বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর খাদিজা আক্তার যেভাবে এক হাতে সংসার, ব্যবসা ও সন্তানদের পড়াশোনা সামলে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁকে দেখে এলাকার অনেকেই এখন অনাবাদি জমিতে ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষির প্রতি খাদিজা আক্তারের তীব্র আগ্রহই তাঁকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ, চারা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি এলাকার নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই বড় অনুপ্রেরণা।

আরও পড়ুনঃ নীলফামারীতে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরসনে ২২ ট্রাফিক ভলান্টিয়ারের কার্যক্রম শুরু

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর