ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home অন্যান্য...কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য নীলফামারীতে প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের কুটিরশিল্প

নীলফামারীতে প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের কুটিরশিল্প

নীলফামারীতে বাঁশের কুটিরশিল্প সংকটে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীতে প্লাস্টিকের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় সংকটে পড়েছে বাঁশের কুটিরশিল্প। একসময় গ্রামবাংলার মানুষেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় ডালি, কুলা, চালুনি ও ঝুড়ি সহ নানা পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন এসব পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পেশা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে এক সময়ের এসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের কারিগরদের জন্য।

সনাতন সমাজব্যবস্থায় বর্ণবৈষম্যের শিকার একটি জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে প্লাস্টিকের তৈরি সস্তা ও নানা রঙের পণ্যের সহজলভ্যতায় তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী পেশা এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ গ্রামের সহদেব রায় প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশের কাজ করছেন। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখাকে তিনি নিজের দায়বদ্ধতা মনে করেন। বাড়ির উঠানে বসে চালুনি বানাতে বানাতে তিনি বলেন, আগে হাটে নিয়ে গেলেই বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি হয়ে যেত। এখন দোকানে দোকানে প্লাস্টিকের পণ্য। তৈরি করা জিনিস পড়ে থাকে, বিক্রি হয় খুব কম। কথা বলার সময় বাঁশের জিনস পত্রের কারিগর সহদেব রায়ের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ লক্ষ করা যায়। যে পেশা একসময় সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল, এখন সেটি ধরে রাখাই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় হাটবাজারে এখন বাঁশের ডালা, ঝুড়ি ও চালুনির পাশাপাশি সারি সারি প্লাস্টিকের পণ্য দেখা যায়। কম দাম ও বিভিন্ন রঙের কারণে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্লাস্টিকের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে গেছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলায়ও হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখনো এই পেশা ধরে রেখেছে। তবে তাদের অনেকেই মহাজনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ডোমার উপজেলার বড়রাউতা গ্রামের দেবীরডাঙ্গা এলাকায় কয়েকটি পরিবার এখনো বাঁশের কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে বাড়ির উঠানে পুরুষেরা বাঁশ চাঁছেন, নারীরা তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। স্কুল থেকে ফিরে শিশুরাও কখনো কখনো পরিবারের কাজে সহযোগিতা করে।

কারিগর হরিদাশ বলেন, এই কাজই তাঁদের পরিচয়। কিন্তু এতে লাভ খুব কম। একটি বাঁশ থেকে ১০ থেকে ১২টি ডালি তৈরি হয়। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রতিটি ডালি বিক্রি করে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ থাকে। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন বলেও জানান তিনি।

কারিগরদের ভাষ্য, আগে যে বাঁশ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটি কিনতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। অথচ বাঁশের তৈরি পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে কাঁচামালের খরচ বাড়ছে আবার অন্যদিকে কমে যাচ্ছে লভ্যাংশ।

এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক পরিবারের চাষের জমি নেই। বসতভিটাই তাঁদের শেষ সম্বল। দিনভর কাজ করেও আয় নিশ্চিত না হওয়ায় নতুন প্রজন্মও বাঁশের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কেউ শহরে গিয়ে দিনমজুরি করছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

বাঁশের কুটিরশিল্প টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্রঋণ সহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কারিগরদের বক্তব্য, ঋণ পেলেও তা পরিশোধ করতে হয়। তাঁদের আগে প্রয়োজন পণ্যের বাজার ও ন্যায্য দাম।

বিসিক নীলফামারীর উপব্যবস্থাপক মো. নুরেল হক বলেন, বাঁশের কারিগরদের ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে সহায়তা করা হয়। তাঁদের কীভাবে আরও সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। প্লাস্টিকের বাজারে তাঁদের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে মেলার আয়োজন করা হলে কারিগরদের সেখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

বাঁশের কুটিরশিল্প শুধু কয়েকটি পরিবারের আয়ের উৎস নয়, এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের কারিগরি দক্ষতারও অংশ। প্লাস্টিকের সহজলভ্যতার কারণে এই শিল্পের বাজার সংকুচিত হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, আধুনিক নকশায় প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কারিগররা রাষ্ট্রের কাছে এমন ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন যাতে, এই শিল্পটি যেন টিকে থাকে এবং তাঁদের সন্তানরা যেন বাবার পেশাকে পরিচয় হিসেবে বলতে লজ্জা না পায়।

আরও পড়ুনঃ মিরপুরে অবৈধ নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রাজউকের অভিযান

নরসিংদীতে যুব সমাজের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর