ডেক্স রিপোর্টঃ
কলা, আঙ্গুর, লেবু কিংবা ডাবের পানি শিশুর সর্দি কাশি হলে কি ঠান্ডা বাড়িয়ে দিতে পারে? শিশুর সর্দি কাশি হলে এগুলো কি খাওয়ানো যাবে, নাকি বন্ধ করে দিতে হবে? সমাজের এই প্রচলিত ধারনা সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলছে? বারডেম মহিলা ও শিশু হাসাপাতাল এর সহযোগী অধ্যাপক নবজাতক ও শিশু বিষেশজ্ঞ ডা. অমৃত লাল হালদার বলছেন, সর্দি-কাশির সময় শিশুকে এসব ফল খাওয়ানো থেকে বিরত রাখার পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই। বরং বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার অত্যান্ত সহায়ক হিসাবে কাজ করে।
সর্দি-কাশিতে ফল খাওয়ানো নিয়ে প্রচলিত ধারণা
ডা. অমৃত লাল হালদার এ বিষয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলেন, শিশুর সর্দি-কাশি হলে শুধু ঠান্ডা লাগার আশঙ্কায় ফলমূল বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। আপেল, পাকা কলা, লেবু, ডালিম ও আঙুরের মতো ফল শিশুর স্বাভাবিক খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব ফলে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শিশুর সুস্থ ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সহায়তা করে।
‘কলা খেলে কফ বেড়ে যায়‘ এমন ধারণাকেও তিনি আর্টিকেলে প্রচলিত ভুল ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, পাকা কলা শক্তির একটি ভালো উৎস। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, আর অন্যান্য ফলও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডাবের পানি ও পর্যাপ্ত তরলের গুরুত্ব
সর্দি-কাশি চলাকালিন শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করা জরুরি। ডা. অমৃত লাল হালদার ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুকে বয়স ও খাবার গ্রহণের উপযোগিতা বিবেচনায় ডাবের পানি দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে ডাবের পানি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পানিশূন্যতা মোকাবিলার নির্ধারিত তরলের বিকল্প নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার দেওয়ার পাশাপাশি তার স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া ও পানীয় গ্রহণের দিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধ বা নির্ধারিত শিশু খাদ্যই প্রধান। এ বয়সে অন্য খাবার বা পানীয় দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়
ডা. অমৃত লাল হালদার তার লিখিত আর্টিকেরে শিশুর ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রথমত, শিশুকে পরিষ্কার ও তাজা ফল দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো পানীয়ের পরিবর্তে সম্ভব হলে আস্ত ফল বেছে নিতে হবে। তৃতীয়ত, শিশুর বয়স ও খাওয়ার সক্ষমতা অনুযায়ী অল্প অল্প করে খাবার দিতে হবে।
আঙুরের মতো গোল ও পিচ্ছিল ফল ছোট শিশুকে দেওয়ার আগে নিরাপদভাবে ছোট টুকরা করতে হবে, যাতে শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। শিশুর বয়স, খাবার গিলতে পারার সক্ষমতা এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় খাবার নির্বাচন করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুর অসুস্থতায় সচেতনতা জরুরি
সর্দি-কাশি হলে শিশুর খাবার বন্ধ না করে বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত তরল ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা উচিত। তবে শ্বাস নিতে কষ্ট, পানিশূন্যতার লক্ষণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কিংবা উপসর্গ বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে জানিয়েছে তিনি।
সর্বপরি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুকে ফল খাওয়ানোর বিষয়ে ডা. অমৃত লাল হালদারের মূল পরামর্শ হচ্ছে, এ সময় অকারণে ফলমূল বন্ধ না করে শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক খাবার দেওয়া এবং পরিচর্যায় যথা সম্ভব সর্বোচ্চ সচেতন থাকা অত্যান্ত জরুরী।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে লায়ন্স ক্লাবের সেবামূলক কর্মসূচি, ৫০০ জন পেলেন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা