বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় চাড়ালকাটা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তীরের স্তূপ করা বালু বিক্রির ইজারার সুযোগ নিয়ে নদীতে ড্রেজার ও নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। দিন-রাত ভারী ডাম্প ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে নদীভাঙন, পরিবেশদূষণ এবং সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেল, নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা বাঁধ ও গ্রামীণ সড়ক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে চাড়ালকাটা নদীর তীরে জমে থাকা স্তূপকৃত বালু বিক্রির জন্য উপজেলা প্রশাসন ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দেয়। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, ১২০ দিনের মধ্যে শুধু নদীর তীরের বালু সরানোর কথা। নদী থেকে নতুন করে বালু উত্তোলন এবং ভারী ডাম্প ট্রাক ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। তবে সরেজমিনে তীরের বালু শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইজারার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ড্রেজার ও ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার করে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখ পর্যন্ত এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বালু উত্তোলনের স্থানটির পাশেই প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে পাউবো। নদীর তলদেশ কাটার কারণে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, বাঁধটি উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা সড়কের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিস্তা সেচ খালের পরিদর্শন সড়কও। কৃষকদের আশঙ্কা, সেচ খালের পাড় ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রের পোড়া তেল নদীর পানিতে মিশে দূষণ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে মাছ ও ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আরও অভিযোগ, ভারী ট্রাকের শব্দে রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন তাঁরা। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মাহমুদ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ কাটা এবং সেচ খালের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ না করলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ইজারার শর্ত ভঙ্গ হলে ইজারা বাতিলের বিধান থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইজারাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করার সুবিধা কি কি?
নীলফামারীতে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে অবরোধ প্রত্যাহার