বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভিডিও ধারণ করা গণমাধ্যমকর্মীদের তা মুছে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে ‘সম্মানি’ দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ের বই বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে বিষয়টি। পরে খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই সংগ্রহ করে বিদ্যালয়টি। তবে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে প্রয়োজনের অধিক বই সংগ্রহ করা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে নামমাত্র বই বিতরণ করে বাকি বই গোপনে বিক্রি করে দেওয়া অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বইয়ের ক্রেতা পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি জানান, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছে ২১ টাকা কেজি দরে বই বিক্রি করেছেন। তিনি বইগুলো ২২ টাকা কেজি দরে পুনরায় বিক্রি করবেন বলেও জানান। বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারীর অভিযোগ, ব্যবস্থাপক ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে নিয়মিত এ ধরনের অনিয়ম চলে। সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিত সাংবাদিকদের বই বিক্রির ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, “ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে, আপনাদের সম্মানি দিয়ে দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দিন।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসালীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এসব বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে কেজি দরে বিক্রি করা হলে তা গুরুতর অনিয়মের মধ্যে পড়ে বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে ১৮ হাফেজকে কক্সবাজার ভ্রমণে নেওয়ার ঘোষণা মাদ্রাসা পরিচালকের
ডোমারে দোয়া মাহফিলে হামলার অভিযোগ বানোয়াট দাবি করে মুসল্লিদের সংবাদ সম্মেলন