ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home আইন ও আদালত যশোরে শ্যালিকার ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক রাফসান জানি খালাস

যশোরে শ্যালিকার ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক রাফসান জানি খালাস

রাফসান জানি ধর্ষণ মামলায় খালাস পাওয়ার ঘটনায় যশোর আদালত

যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানিকে শ্যালিকার করা ধর্ষণ মামলায় খালাস দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৮ অক্টোবর) যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক জেলা জজ শিহাবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাফসান জানির আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোট। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডা. রাফসান জানি ও মামলার বাদী তাঁর শ্যালিকা সামিয়া।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ডা. রাফসান জানি ও তাঁর শ্যালিকা সামিয়াকে ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় যশোরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সামিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে যশোর প্রেসক্লাবে একাধিক সংবাদ সম্মেলনও হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ সামিয়া বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাফসানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি চক্র ২০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে সামিয়াকে ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি দাবি করেন অভিযুক্ত রাফসান। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রোববার তাঁকে খালাস প্রদান করে রায় ঘোষনা করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী সামিয়া দাবি করেন, মণিরামপুরের একটি চক্র তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে ব্যবহার করেছে। ওই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল ডা. রাফসান জানির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা। সামিয়ার ভাষ্য, তাঁকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পূর্বপরিকল্পিত বক্তব্য ক্যামেরার সামনে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রলোভন ও চাপের মুখে তিনি মিথ্যা অভিযোগ করতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. রাফসান জানির আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোট বলেন, সামিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার’ নামের রোগে আক্রান্ত। তাঁর দাবি, এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সামিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে মনগড়া অভিযোগ করতে বাধ্য করে। এ আইনজীবী আরও দাবি করেন, মামলায় এমন ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়েছিল, যাঁরা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, আদালতে সামিয়া নিজেই ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয় বলে স্বীকার করেছেন। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত তাঁর মক্কেলকে খালাস দিয়েছেন।

রায়ের পর ডা. রাফসান জানি অভিযোগ করেন, তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। ওই টাকা না দেওয়ায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান চিকিৎসক।

আরও পড়ুনঃ ঝিকরগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, তিন এলাকায় জরিপ

পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যার্থ

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর