বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামানিককে (৫৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারী জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এই রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিন সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মৃত বাছরা প্রামানিকের ছেলে।
যেভাবে ঘটানো হয় ঘটনা
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন, পরে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য প্রমান গ্রহন শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এই রায় দিয়েছেন।
“এভাবে দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণ কমবে“: ভুক্তভোগীর বাবা
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, দ্রুততার সঙ্গে রায় দেওয়ায় তাঁরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষনের মতো ঘটনা কমবে বলে মন্তব্য করে তিনি এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এক বছরেই সম্পন্ন হলো বিচারিক প্রক্রিয়া
বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্য প্রমান গ্রহন শেষে বিচারক এই রায় দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ নারায়ণগঞ্জে বায়ু দূষণে ডাইং কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা