ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home আবহাওয়া বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ‘গডজিলা’ এলনিনো। মৃত্যু ঝুঁকিতে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম

বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ‘গডজিলা’ এলনিনো। মৃত্যু ঝুঁকিতে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম

সুপার এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা

ডেক্স রিপোর্টঃ

সুপার এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম বাড়তে পারে। এর প্রভাবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৬০০ জনের বেশি মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে “ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব” এর এক গবেষণা ভিত্তিক হিসাবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে শুধু খুলনাতেই অতিরিক্ত প্রায় ৩১০ জনের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে একই সময়ে অতিরিক্ত তাপের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি হতে পারে বলে গবেষণাটিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে এগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা প্রাণহানির সংখ্যা নয়; স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত কত মৃত্যু হতে পারে, মডেলের মাধ্যমে তার হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের এই মূল্যায়ন এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো ইতোমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে আরও শক্তিশালী হয়ে বছরের শেষ দিকে খুব শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বলে সংস্থাটির পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এবারের এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। তারা বলছেন, তাপমাত্রার এই বাড়তি চাপে এমন এলাকাগুলোতে বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে, যেখানে মানুষের অভিযোজনের সুযোগ সীমিত।

বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে অতিরিক্ত তাপের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে গবেষণার হিসাবে উঠে এসেছে। বাইরে কাজ করা শ্রমিক, বয়স্ক মানুষ এবং শীতল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবায় যাদের প্রবেশাধিকার কম, তাঁদের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

তবে এল নিনোর প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আনতে পারে এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, পানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। ডব্লিউএমওও জানিয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা একা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার মাত্রা নির্ধারণ করে না; স্থানীয় অবস্থান, ঋতু এবং ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরের মতো অন্যান্য জলবায়ুগত নিয়ামকও এর প্রভাব পরিবর্তন করতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও বড় ধরনের তাপজনিত প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে। গবেষণার হিসাবে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। একক দেশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ এবং সুদানে প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর প্রাক্কলন রয়েছে।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা আরও কার্যকর করা, অতিরিক্ত গরমের সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জনবল বাড়ানো, প্রয়োজনীয় স্থানে শীতল আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই সময়ে বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু একটি সাময়িক আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী এমনিতেই আগের তুলনায় উষ্ণ। সেই উষ্ণ পরিবেশের ওপর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হওয়ায় তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ যশোরে নেশার টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ, ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মায়ের মামলা

নীলফামারীতে প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের কুটিরশিল্প

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর