ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home আঞ্চলিক ডোমারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে হাঁস ও ছাগল পালনের অভিযোগ, সেবা বঞ্চিত রোগীরা

ডোমারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে হাঁস ও ছাগল পালনের অভিযোগ, সেবা বঞ্চিত রোগীরা

ডোমারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে হাঁস-ছাগল পালনের অভিযোগ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর ডোমারে ফার্মাসিস্ট এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে হাঁস ও ছাগল পালনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১ নম্বর ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ছাদ ও চত্বরকে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র পশুপাখি পালনের কাজে ব্যবহার করায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পাশাপাশি কেন্দ্রটি নিয়মিত না খোলায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনের দুই পাশে ঘাস লাগানো হয়েছে। চারপাশ জঙ্গল ও ময়লায় আচ্ছন্ন। ভবনটির পরিবেশ দেখে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে বলে মনে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র প্রায়ই কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ রাখেন। ছোট ফটকটি খোলা থাকলেও সেটিও অনেক সময় বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রের ছাদে ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছেন পলাশ চন্দ্র। সরকারি চেয়ার-টেবিল দিয়ে ঘিরে পশুপাখি রাখার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে পশুপাখি পালনে বেশি সময় ব্যয় করছেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন কেন্দ্রটি খোলা থাকার কথা থাকলেও সপ্তাহে মাত্র তিন দিন খোলা হয়। তাও দুপুর ১টার পর। ফটক বন্ধ থাকায় অনেকেই চিকিৎসা সেবা না নিয়েই ফিরে যান। এ ছাড়া কেন্দ্রের মেঝেতে ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা পড়ে থাকায় চত্বরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাকদীরুল আহসান সোহেল বলেন, “কেন্দ্রটি আমার বাড়ির পাশে। দীর্ঘদিন ধরে দেখছি তিনি ছাদের উপরে ছাগল ও হাঁসের খামার বানিয়েছেন এবং সামনের জায়গায় ঘাস চাষ করে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। সন্তানকে টিকা দিতে নিয়ে গেলে মূল গেট সবসময় বন্ধ পাই। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি তা মানছেন না।” অভিযোগের বিষয়ে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বলেন, “ব্যবসার জন্য নয়, আমি নিজের খাওয়ার জন্য এসব পালন করি। পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার, আমি তাই করব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমি হাঁস ও ছাগল পালন করছি।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, ছাগল পালনের বিষয়টি তিনি উপজেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীলফামারী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল কামাল মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না। তিনি উপজেলা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলবেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

আরও পড়ুনঃ মোংলায় পূর্ন নিরাপত্তায় মহাসমারহে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দূর্গোৎসব

মিরসরাইয়ে বিজলী শিক্ষা উন্নয়ন বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ, ৭৭ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান।

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর