স্টাফ রিপোর্টারঃ
কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চালু হয়েছে ‘পাথুরিয়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল (সবজি)-জিএপি ও কৃষক সেবা কেন্দ্র’। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের অধীনে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইফাদ) প্রত্যক্ষ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় যুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধারা ইউনিয়নে নতুন প্রতিষ্ঠিত এই ফিল্ড স্কুলের কার্যক্রম পরিদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রমেশ চন্দ্র ঘোষ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) অপূর্ব লাল সরকার এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।
পুষ্টি, উদ্যোক্তা ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ—তিন স্তম্ভে উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই ফিল্ড স্কুল ও সেবা কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের সরাসরি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা বলেন, উদ্যোগটি তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—
১. পুষ্টি উন্নয়ন: সুষম ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন নিরাপদ সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা।
২. উদ্যোক্তা তৈরি: ঐতিহ্যবাহী কৃষিকে ব্যবসাবান্ধব মডেলে রূপান্তর করে স্থানীয় তরুণ ও কৃষকদের কৃষি-উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
৩. পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ: উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণ করে কীটনাশকের পরিমিত ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা।
মাটি পরীক্ষা থেকে ড্রোন প্রযুক্তি—কৃষকেরা কী কী সুবিধা পাবেন
জিউধারার এ সেবা কেন্দ্র থেকে এলাকার কৃষকেরা মাটি পরীক্ষা, উন্নত মানের বীজ নির্বাচন, আধুনিক সার ব্যবস্থাপনা এবং পোকামাকড় দমনে জৈব বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সরাসরি পরামর্শ পাবেন। এ ছাড়া ক্রপ ড্রোন প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল ও সবজি (যেমন কুমড়া, লাউ, টমেটো, বেগুন, শসা, ঢেঁড়স, করলা ইত্যাদি) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ-বিষয়ক আধুনিক নির্দেশিকাও দেওয়া হবে।
‘হাতের কাছেই সেবা’: কৃষকদের সন্তোষ
জিউধারা এলাকার কৃষক প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আগে চাষাবাদের সমস্যা সমাধানে বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হতো। এখন হাতের কাছেই সেবা কেন্দ্র ও ফিল্ড স্কুল পাওয়ায় সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে লাভজনক উপায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করতে পারবেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের অধীন এই ফিল্ড স্কুল স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে এবং আধুনিক স্মার্ট কৃষির ভিত রচনা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুনঃ সর্দি-কাশির সময়ে শিশুকে কলা বা ডাবের পানি খাওয়ালে ঠান্ডা লাগবে, ধারনাটি কতটা সঠিক?