ডেক্স রিপোর্টঃ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ, আলোচনা ও প্রতিবাদের মধ্যে দেওয়া বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংশোধন করা হয়েছে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগের বিষয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ বা ‘অপপ্রচার’ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা থাকলেও, সমালোচনার পর প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই অংশ বাদ দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ ও গণমাধ্যমে প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এ-সংক্রান্ত সব অভিযোগ বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করেছে। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সমালোচনার পর বদলে যায় বিজ্ঞপ্তির ভাষা
প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনও কি ‘অপপ্রচার’ হিসেবে বিবেচিত হবে? অনেকে বিজ্ঞপ্তির ভাষাকে কঠোর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন।
সমালোচনার পর একই রাতে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নতুন সংস্করণে আইনগত ব্যবস্থার সতর্কবার্তাসংবলিত অংশটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে বলা হয়, কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
অতিরিক্ত বিল নিয়ে বিতর্কের পটভূমি
মে ও জুন মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ করেছেন। অনেকের দাবি, আগের মাসগুলোর তুলনায় জুলাই মাসে প্রাপ্ত বিলে কয়েক গুণ বেশি অর্থ পরিশোধের দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে অনেক গ্রাহক উচ্চতর স্ল্যাবে চলে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন খুচরা বিদ্যুৎ মূল্য কার্যকর হওয়ায় বিলের পরিমাণও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অভিযোগ গ্রহণের জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বিল নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ আগের অবস্থান থেকে ভাষাগত পরিবর্তন আনলেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
আরও পড়ুন: দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, এক শিক্ষকের কাঁধে ৬০০ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব
লোডশেডিং ও প্রিপেইড মিটার নিয়ে ক্ষোভ, হাতীবান্ধায় গ্রাহকদের মানববন্ধন
