শোভন ভট্টাচার্য্য, নীলফামারী
নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের উজানে আবারও প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলন। দিন-রাত তিস্তা নদীর বুকে নৌকায় ভারী শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ খুঁড়ে পাথর তুলে নেওয়া হচ্ছে। বারবার অভিযান, মেশিন ও নৌকা ধ্বংস এবং জরিমানা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই তৎপরতা শুরু হওয়ায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তাবাজার, তেলীরবাজার, চরখড়িবাড়ী, বাইশপুকুর, ছাতুনামা ও দোহলপাড়া এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক শ্যালো মেশিন দিয়ে তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন চলছে। এর মধ্যে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তেলীরবাজার এলাকাতেই শতাধিক মেশিন সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদী থেকে উত্তোলিত পাথর তেলীরবাজার থেকে নৌকায় করে শুটিবাড়ী বাজারের উত্তর পাশে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে অন্তত ১২টি পয়েন্টে এসব পাথর মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন
সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান চালিয়ে তিস্তা নদী থেকে ১৬টি নৌকা ও চারটি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার দিন বিকেল থেকেই নতুন করে নদীতে মেশিন নামিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটি অভিযান শেষ হওয়ার পর এত দ্রুত কীভাবে আবার বিপুল সংখ্যক শ্যালো মেশিন নদীতে সক্রিয় হলো।
পাথর উত্তোলন ঘিরে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
অবৈধ পাথর উত্তোলন ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করার কথা বলে মেশিন মালিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
১৫১৬ পাথর ব্যবসায়ী জড়িত থাকার দাবি
তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে ১৫১৬ জন পাথর ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। আবারও পাথর উত্তোলন শুরুর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি
তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, শুধু শ্যালো মেশিন ধ্বংস বা জরিমানা করলেই অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাথর উত্তোলনের মূল হোতা, নৌকা ও মেশিন সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা, মজুতদার এবং বাজারজাতকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে তিস্তা নদীর তলদেশ ও তীররক্ষা অবকাঠামোর ওপর অবৈধ পাথর উত্তোলনের প্রভাব নিরূপণে জরুরি ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।
