নারায়নগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নামের সঙ্গে ‘মেডিকেল কলেজ’ শব্দ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-অ্যাকটিভ নামক একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি ওয়েবসাইট, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন প্রচারণায় নিজেদের ‘প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড’ নামে পরিচয় দিয়ে আসছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজ পরিচালনার অনুমোদন নেই। এ কারণে নামের সঙ্গে ‘মেডিকেল কলেজ’ শব্দ ব্যবহার না করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এরপরও ওই নির্দেশনা মানা হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম বলেন, “ওদের শুধুমাত্র হাসপাতালের লাইসেন্স আছে। যেহেতু মেডিকেল কলেজের কোনো অনুমোদন নেই, সেহেতু মেডিকেল কলেজ শব্দ ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়।”
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অনুমোদন ছাড়া ‘মেডিকেল কলেজ’ শব্দের ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটিকে এখন পর্যন্ত তিনবার লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নাম ও প্রচারনা থেকে শব্দটি সরানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি মাত্র শুনলাম। এই প্রতিষ্ঠান সহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে সেই বিষয়ে যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিষয়টি আমাদের কাছে পাঠানো হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমান মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার সবুজ বলেন, “আমাদের লাইসেন্সে যে নাম রয়েছে, সেই নামই আমরা ব্যবহার করছি। বিষয়টি সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাই জানে। আমাদের মেডিকেল কলেজের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ চালু না থাকলেও এই নাম ব্যবহারের অনুমতি আমাদের আছে।”
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাদের মতে, মেডিকেল কলেজ হিসেবে পরিচয় দিতে হলে সরকারের নির্ধারিত অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি নিবন্ধন বা লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া মানেই ‘মেডিকেল কলেজ’ পরিচয় ব্যবহারের স্বয়ংক্রিয় আইনগত অধিকার তৈরি হওয়া নয়। মেডিকেল কলেজ পরিচালনা এবং এ ধরনের পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ও সরকারের অনুমোদনই গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তিনবার নোটিশ দেওয়ার পরও যদি প্রতিষ্ঠানটি ‘মেডিকেল কলেজ’ পরিচয় ব্যবহার করে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া ‘মেডিকেল কলেজ’ শব্দ ব্যবহারের বৈধতাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল কলেজ পরিচালনার অনুমোদন নেই। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা আইনসম্মতভাবেই নামটি ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির এই পরিচয় ব্যবহারের প্রকৃত আইনি বৈধতা কি, তা নির্ধারনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাখছেন তারা।
আরও পড়ুনঃ মাদক বিক্রির অভিযোগে শিক্ষক আপেল সহ তিনজন গ্রেপ্তার
