যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রূপালী হাউজিংয়ে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ আইন-বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে। ভবনটির পঞ্চম তলার সাটারিং ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চললেও নির্মাণস্থলের চারপাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় নির্মাণশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মহাখালী জোনাল অফিস-৩/১-এর আওতাধীন শাহআলী থানার রূপালী হাউজিং এলাকার বাড়ি-৫৫, রোড-৩, সেকশন-৩-এ নির্মাণাধীন ভবনটির বিভিন্ন অংশে অনুমোদিত নকশার তুলনায় দৃশ্যমান বিচ্যুতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের মধ্যেই ভবনের পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই চলছে নির্মাণকাজ
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় ভবনের চারপাশে এমন কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যাতে ওপর থেকে নির্মাণসামগ্রী, ইট, রড বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে পথচারী কিংবা আশপাশের মানুষ আহত হওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে। ফলে ব্যস্ত আবাসিক এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির বিভিন্ন অংশে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভবনের চারপাশে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে বা অনুমোদিত সীমার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ভবনের অনুমোদিত নকশা শুধু ভবনের আকার বা সৌন্দর্যের বিষয় নয়; ভবনের উচ্চতা, সেটব্যাক, খোলা জায়গা, আলো-বাতাস, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক আছে। ফলে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হলে সেটি শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণকাজ চলাকালীনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নোটিশ, তদন্ত ও শুনানি শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। রাজউকের অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে জরিমানা, সিলগালা, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অবৈধ অংশ অপসারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার নজিরও আছে।
রাজউক কর্মকর্তার আশ্বাস
এ বিষয়ে রাজউক মহাখালী জোন-৩/১-এর অথরাইজড অফিসার এফ আর আশিক আহমেদ এবং একই জোনের ইমারত পরিদর্শক ছামিউল আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, ভবনটির নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা এবং বাস্তব নির্মাণের মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি না তা দ্রুত তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া চলা নির্মাণকাজ বন্ধ অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারন।
আরও পড়ুনঃ ঢাকার ফুটপাত সহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ডিএমপির তালিকায় ১,৫৩০ জন