ডেস্ক রিপোর্টঃ
নাকে পাইপ লাগানো একটি শিশু বসে বসে বাম হাত দিয়ে বাজাচ্ছে খেলনা বাদ্যযন্ত্র। আবার কখনো ওই হাতটা দিয়েই নাড়াচড়া করছে নানা রকম খেলনা। দৃশ্যটা স্বাভাবিক হলেও শিশুটির চেহারা দেখলে যেকেউ বুঝতে পারবে আসলে ঘটনাটা কতটা অস্বাভাবিক। শরীরের ডান পাশ পুরোপুরি অসাড় আর মাথার বাম পাশে কৃত্রিম খুলি নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ শিশু বাসিদ খান মুসা।
দিনটা ছিল ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। ছোট্ট বাসিদ খান বাবার কাছে আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরে। বাইরে পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ থাকলেও তা যে মূহুর্তেই এতটা খারাপ রুপ নেবে ভাবতে পারেনি মুসার বাবা। ছেলের বায়না রাখতে তাই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার রামপুরার বাসা থেকে নিচে নেমে আসেন তিনি। সেখানে বাড়ির গ্যারেজে থাকা অবস্থায়ই ছুটে আসে বুলেট। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাসিদ খানের বাবা বলেন “যখন গুলিটা বাইরে থেকে আসল তখন সবাই একটা চিৎকার দিল। আমিও চিৎকার দিছিলাম। পরে দেখি যে ও মাটিতে শুয়ে আছে। আর মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে”।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কেমন আছে জুলাই আহত শিশু মুসা?
তিনি জানান, বাংলাদেশ এবং দেশের বাইরে মোট ২১ টির মতো সার্জারী হয়েছে বাসিদ খান মুসার। তবে এখন পর্যন্ত সে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেনি। শরীরের বাম পাশ মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরোপুলি অকেজ হয়ে আছে তার। খাবার খাওয়ার জন্য সরাক্ষন নাকের ভেতর লাগানো থাকে নল।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, গুলিটি মুসার মাথার এক পাশে ঢুকে বের হয়ে যাওয়ার পর সেই একই গুলি বিদ্ধ হন পেছনা থাকা তার দাদি মায়া ইসলাম। গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক দিন পর মৃত্যু হয় তার।
২৪ এর আন্দোলনে আহত হয়ে মুসা হয়ত বেঁচে থাকার লড়াই করার সুয়োগ পেয়েছে। কিন্তু আরও বহু শিশু আহত হয়ে মারা যায়। সরকারী হিসাবে এই সংখ্যা ১২৮ জন। আহত এবং নিহতের স্বজনদের দাবি দৃশ্যমান বিচার। যা হয়ত তাদের চোখের মনিকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি এনে দিতে পারবে বলে দাবি অনেক নিহত শিশুর স্বজনদের।
আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, বিকেলে স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
তথ্য সূত্রঃ বিবিসি
