শোভন ভট্টাচার্য্য (নীলফামারি):
২০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২৪ লাখ টাকার ইন্টারনেট বিল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডলের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য উপজেলার ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল বাবদ বিদ্যালয়প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য গত মে মাসে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন।
২৪ লাখ টাকার হিসাব, আটকে আছে বরাদ্দ
বিদ্যালয়প্রতি মাসিক এক হাজার টাকা হিসেবে ১২ মাসের বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। ২০৭টি বিদ্যালয়ের হিসাবে এক বছরে মোট বিলের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী বিলের অর্থ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ হওয়ার কথা থাকলেও জুন মাসে সরকারি বরাদ্দ ছাড় হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি।
টাকা চাওয়া ও হয়রানির অভিযোগ
শিক্ষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাউন্টে আসার পর থেকে তা না ছেড়ে আটকে রাখা হয়েছে। বিলের টাকা পাওয়ার জন্য কয়েকজন প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তাঁদের কাছে বিদ্যালয়প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তার এসব কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানি করা হয় শিক্ষকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, তাঁরা মে মাসে কাগজপত্র জমা করেছেন। ভাউচারসহ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ইন্টারনেট বিল সরকারিভাবে ছাড় হয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা থাকলেও দুই মাস পার হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসের অ্যাকাউন্টে টাকা আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান, শিক্ষকেরা নিজের টাকায় পুরো বছর ইন্টারনেট রিচার্জ করলেও এখন তাঁদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল আটকে রাখা হয়েছে। এক বছরের ভাউচারসহ সব কাগজপত্র নিয়ে বিল ছাড় হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা অ্যাকাউন্টে সব বিল আটকে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা হয়, এমনকি কোনো সাংবাদিককে তথ্য জানালে সামান্য কারণেই শোকজ করা হয়।
শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডল বলেন, টাকা তাঁর কাছে রয়েছে এটা সত্যি। সব বিদ্যালয়ে ১২ মাস ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলেই সবাইকে নেট বিল দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে হোটেলকক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ, রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রী উদ্ধার
চৌগাছা মডেল হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলায় স্বাস্থ্যকর্মীর বদলি, বদলে গেছে সেবার চিত্র
