ডেক্স রিপোর্টঃ
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন নতুন নিয়ম জারি করেছে—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল সম্পর্কে কমিশন অবগত হবে এবং বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা ও অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে যে দাবি ছড়িয়েছে
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি মূল সনদপত্র জমা না দিলে মনোনয়ন পত্র বাতিল হবে বলেও বিভিন্ন পোস্ট ও তথাকথিত পত্রিকার কাটিং ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনে এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। মূলধারার গণমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বিদ্যমান আইনে কী আছে?
বর্তমানে কার্যকর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত নেই। অর্থাৎ আইনগত ভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও একজন ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারেন। সদস্য (মেম্বার) পদেও এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান বর্তমানে বিদ্যমান নেই।
কেন হাইকোর্টে রুল?
গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে জানতে চান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
রিটকারীদের যুক্তি, গ্রাম আদালত আইনের আওতায় ইউপি চেয়ারম্যান বিচারিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। আদালত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। কমিশনের লক্ষ্য আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে জনপ্রতিনিধি নেই অথবা যাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
কমিশনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চললেও আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। আইন পরিবর্তনের কারনে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো কারন নেই বলেও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা, অনুমোদনহীন ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ না করার আহ্বান
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ শাকিলের লড়াই, দেড় বছর পরও শেষ হয়নি চিকিৎসা
