বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভিসা প্রতারণার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এমন একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন তাঁতী লীগ নেতা সাহাবুল ইসলাম। শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সাহাবুলসহ চক্রের ছয় সদস্যকে দুটি পাসপোর্ট ও অস্ট্রেলিয়ার ভিসার দুটি আবেদনসহ গ্রেপ্তার করে। উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি মুক্তা হিমাগার এলাকা থেকে মাইক্রোবাস আটকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার যাঁরা হলেন
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিতাই কাছারীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সাহাবুল ইসলাম সাবুল (২৪), নীলফামারী সদরের বাটুলটারী গ্রামের মোখলেছার রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮), মেশকাত আলীর ছেলে আজিনুর ইসলাম (২৪), এমলাক হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ মিয়া (২৪), মাইক্রোবাসের চালক সজিব মিয়া (২৬) ও হেল্পার সাফিউল ইসলাম (২৮)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর।
ভুয়া ভিসার কপি, অনলাইন জুয়ার আলামতও মিলেছে মোবাইলে
ওসি আব্দুল গফুর জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে, কয়েকজন ভিসা প্রতারক যশোর থেকে ফিরছেন। পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করে এবং সাহাবুলসহ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, অস্ট্রেলিয়ান ভিসার দুটি আবেদন ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। তাদের মোবাইলে প্রচুর ভুয়া ভিসার কপি পাওয়া গেছে, এমনকি অনলাইনে জুয়া খেলার আলামতও মিলেছে বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও অনলাইন জুয়া আইনে দুটি পৃথক মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেল থেকে বেরিয়ে ফের সিন্ডিকেট চালাচ্ছিলেন সাহাবুল
এদিকে পুলিশের তথ্য ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থাই লটারিতে বিজয়ী করানো ও ভিসা করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠিয়ে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন জেলার যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাহাবুল। দিনমজুর থেকে তাঁতী লীগের প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা করে কোটিপতি হয়ে ওঠেন তিনি।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। জেল থেকে বের হয়ে আবারও সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আবারও শনিবার সকালে সেই সাহাবুলসহ ভিসা প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর আরও জানান, মামলা দিয়ে সাহাবুলসহ ছয়জনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় গরু-প্রসাধনী উদ্ধার করল বিজিবি
নীলফামারীতে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যু
