ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home আঞ্চলিক নীলফামারীতে লোডশেডিংয়ে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ৭৭ হাজার টন আলু

নীলফামারীতে লোডশেডিংয়ে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ৭৭ হাজার টন আলু

নীলফামারীতে লোডশেডিংয়ে ঝুঁকিতে থাকা হিমাগারের আলু

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলু ব্যবসায়ীরা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে, সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে বড় ধরনের বীজ-সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেনারেটর দিয়ে মেশিন চালানো সম্ভব নয়

সৈয়দপুরের নর্দান কোল্ডস্টোরেজের মালিক আবু তালেব জানান, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটরের মাধ্যমে পাখা চালু করা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ জেনারেটর দিয়ে হিমাগারের মেশিন চালানো সম্ভব নয়। এতে একদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বলে জানান তিনি।

নীলফামারীর শাওন হিমাগারের ব্যবস্থাপক নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকেরাও দুশ্চিন্তায় আছেন—আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

কৃষকের দাবি: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই

জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী মৌসুমে বপনের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছেন তিনি, কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় আছেন। আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়ে তিনি হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানান।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ সময় মেশিন চালু রাখতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়—একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়, এতে খরচ বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

জেনারেটরে দ্বিগুণ পরিচালন ব্যয়

দীপু রায় আরও বলেন, জেনারেটর ব্যবহার করলে পরিচালন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। হিমাগারে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি কৃষক ও হিমাগারমালিকদের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

চাহিদার চেয়ে ১০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ: নেসকো

এ ব্যাপারে নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, সৈয়দপুরে ৬১ হাজার গ্রাহকের জন্য ৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ৩৬ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ কদমরসুল সেতুর দখলকৃত অংশ উচ্ছেদের দাবিতে স্মারকলিপি

সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৬৫ পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর