নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। তবে বিভিন্ন সূত্রে ছেলে ও মেয়ের নাম এবং বয়সে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার মরদেহ
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় বিষয়টি তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে শনিবার রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি খাটের নিচ থেকে।
ঘরে ছড়ানো-ছিটানো জিনিসপত্র, ভাঙা ছিল টাকার বাক্স
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাড়িতে ঢোকার পর পচা মরদেহের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। টাকাপয়সা রাখার জায়গাগুলোও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রংপুর সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে মনে হচ্ছে। তাঁর ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। মরদেহগুলোর গলায় রশি বা গামছা পেঁচানোর চিহ্ন দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
সিআইডির পরিদর্শক আবু হাসান কবির চারজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুরো বাড়িতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক আলামত দেখে চারজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সিআইডি। তবে চারজনের মৃত্যুর কারণ কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে—এসব এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত এগোনোর পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো বিষয়টি পরিষ্কার জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৩ ফার্নিচারের দোকান, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা
মিরসরাইয়ে ফের বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, বিনষ্ট ৯ শ্যালো মেশিন
