জয়নাল আবেদীন জয় (জযপুরহাট):
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কড়িয়া গ্রামে প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো একটি স্লুইচগেট এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদের বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গেটটির দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। কোথাও কোথাও গেটের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একদিকে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গেটের পাশের বসতবাড়িগুলো পড়েছে ধসের ঝুঁকিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই স্লুইচগেটটি বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এর আশপাশের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মাছমারী বিল, পশ্চিম কড়িয়া ও রামনগর এবং ধরঞ্জী ইউনিয়নের পাড়ইল মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৯২ সালে স্লুইচগেটটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পূর্ব কড়িয়া গ্রামের নদীরকুল মোস্তাকের বাড়ির পাশে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গেট দিয়ে এসব এলাকার পানি পাশের চিরি নদীতে গিয়ে পড়ে।
পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি স্লুইচগেটের ওপর দিয়ে স্থানীয় অর্ধশতাধিক পরিবার চলাচল করে। কৃষকেরা মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়ার পথ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করছেন। ফলে গেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি মানুষের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি কয়েক দিনের অতিবর্ষণে পানির তীব্র স্রোতে স্লুইচগেটের দুই পাশের মাটি ব্যাপকভাবে ধসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গেটের বিভিন্ন অংশও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি বাড়তে থাকলে বাকি অংশও ধসে গিয়ে পুরো স্থাপনাটি ভেঙে পড়তে পারে। এতে পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে স্লুইচগেটের পাশের মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বসতবাড়ি। বাড়ির লাগোয়া মাটি ধসে যাওয়ায় ঘরের নিচের অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, পানির স্রোতে স্লুইচগেটের দুই পাশের মাটি ভেঙে ও দেবে গেছে। তাঁর বাড়িও এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তাঁর স্ত্রীও দ্রুত স্লুইচগেটটি সংস্কার এবং বসতবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই স্লুইচগেট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের পানি নদীতে নামছে। একই সঙ্গে ফসল আনা-নেওয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। গেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এলাকার মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো স্লুইচগেটটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা বসতবাড়িগুলো রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিল্টনকে স্লুইচগেটটির বর্তমান অবস্থার তথ্য দিতে বলা হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ মিরসরাইয়ে প্রাইভেটকার থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত সৈয়দপুরের শিল্প-ব্যবসা, স্বস্তি ফিরছে সরবরাহ বাড়ায়
