ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত সৈয়দপুরের শিল্প-ব্যবসা, স্বস্তি ফিরছে সরবরাহ বাড়ায়

বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত সৈয়দপুরের শিল্প-ব্যবসা, স্বস্তি ফিরছে সরবরাহ বাড়ায়

সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ শিল্পকারখানার প্রতীকী ছবি

শোভন ভট্টাচার্য্য, (নীলফামারী):

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত প্রায় দুই সপ্তাহের বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ায় কারখানার উৎপাদন কমেছে, ব্যাহত হয়েছে কাজের স্বাভাবিক গতি। কমেছে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে বেড়েছে বিকল্প জ্বালানি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার খরচ। তবে গত দুই দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)।

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে বিসিক শিল্পনগরীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা, বেকারি, জুতা, পাটজাত পণ্য, ওয়ার্কশপ, ছাপাখানা, পলিথিন পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও অটো রাইস মিলের মতো প্রতিষ্ঠানে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ চলে গেলেই অধিকাংশ কারখানার বৈদ্যুতিক মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও শ্রমিকদের কাজ থামিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কোথাও আবার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ ফিরে এলেও সঙ্গে সঙ্গে আগের ছন্দে ফেরা যাচ্ছে না। মেশিন সচল করা, শ্রমিকদের কাজে ফেরানো এবং উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে বাড়তি সময় লাগছে।

নোয়াহ্ রয়েল রিল্যাক্স মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজু পোদ্দার বলেন, ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু এক ঘণ্টার উৎপাদন বন্ধ হয় না। মেশিন চালু করতে, শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে এবং উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে আরও সময় লাগে। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে। ওয়ার্কশপের শ্রমিক মঈন বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যে আয় হয়, বিদ্যুৎ না থাকলে সেটি আর হয় না। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বসে থাকার পর কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে হয়।’

সময়ের মধ্যে পণ্য বা অর্ডার সরবরাহ করতে হয়—এমন ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরও বেশি। বিশেষ করে ছাপাখানা, বেকারি ও ওয়ার্কশপের কাজে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

প্রিন্টিং ব্যবসায়ী মো. আমজাদ আলী বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ চান। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালানো যায় না। ফলে সময়মতো অর্ডার দিতে না পারলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

শ্রমিক ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কাজ করলে টাকা পাই। বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ থাকে। তখন মালিকও কাজ দিতে পারেন না, আমরাও ঠিকমতো মজুরি পাই না। সংসার চালাতে আমাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

সৈয়দপুর শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি মেশিন চালু করতে অনেক সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বিদ্যুৎ স্থায়ী না থাকায় উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এতে দৈনিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।’

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বাজার হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মো. নুরেল হক বলেন, ‘সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে প্রায় ৫০টি কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানা পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। শিল্পনগরী হওয়ায় অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হচ্ছে। তারপরও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।’

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কথা জানিয়েছে নেসকো।

নেসকো সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণের চেষ্টা চলছে।’

তিনি জানান, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সৈয়দপুরে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক ঘাটতি ছিল ১২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। চলতি মাসের ১ আগস্ট থেকে এ ঘাটতি দেখা দেয়।

তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান নেসকোর এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, ‘গত দুই দিন ধরে আমরা প্রায় ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যা প্রায় চাহিদার কাছাকাছি। ফলে আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।’ শিল্প এলাকায় উৎপাদন যাতে কম ব্যাহত হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ মান্দায় ১.৫ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

জিয়ানগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন

সত্য সংবাদের ভিডিও খবর দেখতে ইউটিউবে সাবস্ত্রাইব করুন

সত্য সংবাদ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর